বৃহস্পতিবার |
ঢাকা ২ জুলাই ২০০৯ |
১৮ আষাঢ় ১৪১৬ |
৮ রজব ১৪৩০
প্রথম পাতা
Warning: getimagesize(admin/news_images/32/image_32_1647.gif) [function.getimagesize]: failed to open stream: No such file or directory in /home/orangebd/public_html/news_details.php on line 799

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ সমকালকে বলেন, 'আপনি তালিকা দিন, আমি দেখে ব্যবস্থা নেব।'
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, সংসদীয় তদন্ত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপিদলীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ও সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া, সাংসদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ প্রায় দেড়শ' সাংসদ হোস্টেল ছেড়ে যাওয়ার সময় এসব জিনিসপত্রের মায়া ছাড়তে পারেননি
সপ্তম ও অষ্টম সংসদের ১৫৮ সাংসদ ১৩১টি ডিনার সেট, ৪টি ফ্রিজ, ২৮টি প্যাডেস্টাল ফ্যান, ৫৮টি টিফিন ক্যারিয়ার, ৪টি খাটসহ ১৮টি সেন্টার টেবিল, বেড সাইড টেবিল, ড্রেসিং টুল, সোফা, শোকেস ও স্টিলের আলমারি নিয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে ২১৭টি বেডশিট, ২৬১টি বেড কভার, ২৩৫টি বালিশ, ২৩৬টি বালিশের কভার, ১৮৩টি মশারি, ২১৬টি তোয়ালে, ৩৩৫টি লেপ ও লেপ কভার, ৭৩টি তোশক,৭০টি জগ, ৪২টি মগ, ৫৩টি বালতি, ১৬টি বদনারও হদিস নেই।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বিষয়টিকে 'নৈতিকতার স্খলন' বলে বর্ণনা করেছেন। বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ল' পরিচালক ড. শাহদিন মালিকের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, 'ক্ষমতার অপব্যবহার শেষ পর্যন্ত লেপ তোশক বালিশের ক্ষেত্রেও হয়েছে।'
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী ও চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতি উদ্ঘাটনে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী এই কমিটির সভাপতি। খোন্দকার দেলোয়ার
টেলিভিশন, ফ্রিজসহ সংসদ সচিবালয়ের আনুষঙ্গিক বেশকিছু পণ্যসামগ্রী নিয়ে গেছেন।
সূত্র মতে, মেয়াদ শেষে এসব পণ্য ফেরত না দিয়ে সাংসদরা নিয়ে তো গেছেনই, এমনকি এমপি হোস্টেল ত্যাগের সময় কেয়ারটেকারের সঙ্গে সরকারি আসবাবপত্র নিয়ে এক সাংসদের টানাহেঁচড়ার ঘটনাও ঘটেছে। পটুয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সাংসদ আনোয়ারুল ইসলামকে কেয়ারটেকার একটি 'সেন্টার টেবিল' নিয়ে যেতে বাধা দিলে এ টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। ওই সাংসদ ৩৫ পিসের একটি ডিনার সেট, একটি রিমোট কন্ট্রোল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার, রাইটিং টেবিল, অকেশনাল চেয়ার, আলনা, ম্যাট্রেস, ৩টি বেড কভার, ৪টি বালিশ, বালতি, তালা, জগ, মগসহ ২২টি সামগ্রী নিয়ে যান।
সপ্তম সংসদ (১৯৯৬)
গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া হোস্টেল ছাড়ার সময় ৩৫ পিসের ১টি ডিনার সেট, টিফিন ক্যারিয়ার, অ্যাশট্রে, তালা নিয়ে যান। সঙ্গে ৩টি তোশক, ৬টি বেড কভার, ৩টি বালিশ কভার, একটি লেপ, ৫টি লেপ কভার, ২টি বালতি, ১টি করে জগ, মগ, বদনা, পর্দা রয়েছে। ওই সংসদে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়ে এমপি হোস্টেলের ৪ নম্বর ব্লকের ৩ নম্বর রুমটি বরাদ্দ পেয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক সাংসদ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ফ্রিজ, প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার, ড্রেসিং টেবিল, বেড সাইট টেবিল, হাতাযুক্ত কুশন চেয়ার, ড্রেসিং টেবিল, শোকেস, ৩টি সোফা, ২টি খাট নিয়ে গেছেন। এর সঙ্গে ব্যবহার্য কটন ম্যাট্রেস, ফোম ম্যাট্রেস, চা চামচ, ডিনার সেট, তালা, বালতি, জগ, মগ, পর্দা, ৪টি লেপ কভার, ৩টি লেপ, ৯টি তোয়ালে, ২টি টেবিল কভার, ৪টি মশারি, ৬টি বালিশ, ৬টি বালিশ কভার, ৬টি বেডশিট ও ৪টি বেডও ছিল।
বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ডিনার সেট, টিফিন ক্যারিয়ার, লেপ, লেপ কভার, টেবিল কভার, তোয়ালে, ৯টি বালিশ কভার, ৩টি বালিশ, ৮টি বেডশিট, ৫টি বালিশ জমা দেননি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবিএম তাজুল ইসলাম ডিনার সেট, ড্রেসিং টুল, প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার, লেপ, তোশক, তোয়ালে, বালিশ, বালিশ কভার, বেডশিট বেড কভার এবং পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস ডিনার সেট, টিফিন ক্যারিয়ার, ফোম ম্যাট্রেস, জগ, মগ, তোয়ালে, বালিশ, বালিশের কভার, বেডশিট, বেড কভার নিয়ে যান। সপ্তম সংসদের সদস্য হিসেবে দু'জন যথাক্রমে সংসদ ভবনের ৬ নম্বর ব্লকের ১৯ ও ২৬ নম্বর রুম বরাদ্দ পান।
বিএনপির সাংসদ অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ফ্রিজ, ডিনার সেট, টিফিন ক্যারিয়ার, প্যাডেস্টাল ফ্যান, জগ, টেবিল কভার, মশারি, বালিশ, বালিশের কভার, বেডশিট নিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান ও রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সাংসদ জিল্লুল হাকিম প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ারসহ নিত্যব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী জমা দেননি।
ফেনী-২ আসনের আলোচিত সাংসদ জয়নাল আবেদীন হাজারী ডিনার সেট, প্যাডেস্টাল ফ্যান, ম্যাট্রেস, বেড সাইড টেবিল, টি-টেবিল, ৩টি বেডশিট, ৬টি বালিশ কভার ও লেপ কভারসহ ১৯টি পণ্যসামগ্রী নিয়ে যান।
সাবেক পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আবদুল কুদ্দুছ ডিনার সেট, বেডশিট, বালিশ, তোশক, তালাসহ ১৪টি; জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ আবদুল মুকিত চৌধুরী ডিনার সেট, প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার, তোশকসহ ৮টি পণ্য বুঝিয়ে দেননি।
এছাড়া সপ্তম সংসদের সদস্য আবদুর রশীদ সরকার (গাইবান্ধা-২), আবুল কালাম (টাঙ্গাইল-৭), কেএম আবদুল খালেক চন্টু (কুষ্টিয়া-৩), মোঃ শাহজাহান (সিরাজগঞ্জ-৬), আবদুল মজিদ তালুকদার (বগুড়া-৩), শামসুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), আলী রেজা রাজু (যশোর-৩), শরীফ খসরুজ্জামান (নড়াইল-২), লুৎফর রহমান চৌধুরী (গাইবান্ধা-৪), আহাম্মদ আলী (মেহেরপুর-১), হাফেজ রুহুল আমিন (ময়মনসিংহ-৭), এমদাদুল হক ভূঁইয়া (নারায়ণগঞ্জ-২), আবদুল মান্নান তালুকদার (সিরাজগঞ্জ-৩), রায়হানুল হক (রাজশাহী-৫), অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুছ (নাটোর-৪), অ্যাডভোকেট এন কে আলম চৌধুরী, (নীলফামারী-১), আহসান আহমেদ (নীলফামারী-২), রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার (নাটোর-২), মোশাররফ হোসেন মঙ্গু (বরিশাল-৩), শরফুদ্দিন আহম্মেদ (রংপুর-১), গোলাম ফারুক অভি (বরিশাল-২) ও সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ মিসেস দিলারা হারুন, শাহনাজ সরদার, অধ্যাপক এথিন রাখাইন, অধ্যাপিকা জান্নাতুল ফেরদৌস, কামরুন্নাহার পুতুল, বেগম আলেয়া আফরোজ ও মিসেস রেহেনা আক্তার হীরা প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার, ডিনার সেটসহ ব্যবহার্য লেপ, তোশক, বালিশ, বেডশিট, পর্দা, মশারি, জগ, মগ, তালা বুঝিয়ে দেননি।
অষ্টম সংসদ (২০০১)
এ সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ছিলেন উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। ওই সময় তিনি সংসদের ৪ নম্বর ব্লকের ১০ নম্বর কক্ষে ছিলেন। কিন্তু মেয়াদ শেষে তিনি প্যাডেস্টাল ফ্যান, ডিনার সেট, অ্যাশট্রের সঙ্গে বালতি, জগ, মগ, ৬টি বেডশিট ও বেড কভার, ১৩টি বালিশ ও বালিশ কভার, ৩টি মশারি, ৫টি তোয়ালে, ৪টি লেপ ও ৫টি লেপ কভার বুঝিয়ে দেননি।
গাইবান্ধা-৩ আসনের ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ারসহ ১৯টি পণ্য, রংপুর-২ আসনের মোহাম্মদ আলী সরকার প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ারসহ ৭টি পণ্য নিয়ে যান।
সাবেক সরকারদলীয় হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার, জগ, মগ, বালতি, বদনাসহ ১৩টি পণ্য নিয়ে যান। বিএনপিদলীয় সাবেক সাংসদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ফ্রিজ, টিফিন ক্যারিয়ার, ডিনার সেটসহ ১২টি পণ্য, কুষ্টিয়া-২ আসনের বিএনপিদলীয় সাংসদ সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী সপ্তম-অষ্টম দু'সংসদেই ২টি প্যাডেস্টাল ফ্যানসহ ৪৯টি পণ্য নিয়ে গেছেন।
কক্সবাজার-২ আসনের বিএনপি সাংসদ আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ টিফিন ক্যারিয়ার ও প্যাডেস্টাল ফ্যানসহ ২০টি পণ্য নিয়ে যান। বান্দরবানের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ বীর বাহাদুর ২টি ডিনার সেট, টিফিন ক্যারিয়ার, প্যাডেস্টাল ফ্যানসহ ১৪টি পণ্য, রংপুর-৪ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ আলহাজ মোঃ করিম উদ্দিন ভরসা প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার, ২টি ডিনার সেটসহ ১৭টি পণ্য নিয়ে যান।
এছাড়া মোঃ মজিবুর রহমান (লালমনিরহাট-২), বান্দরবানের বীর বাহাদুর, মোঃ মাহবুবুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), মতিয়ার রহমান (বগুনা-৩), মোঃ আবদুল হাই (ঝিনাইদহ-১), আবদুল মান্নান তালুকদার (সিরাজগঞ্জ-৩), সাবেক হুইপ রেজাউল বারী ডিনা (বগুড়া-২), অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম (কুষ্টিয়া-২), মাসুদ অরুণ (মেহেরপুর-১), শাহজাহান চৌধুরী (কক্সবাজার-৪), মোঃ আখতারুজ্জামান (দিনাজপুর-৪), তালুকদার আবদুল খালেক (বাগেরহাট-৩), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মুফতি ওয়াক্কাছ (যশোর-৫), ইলিয়াছ আলী (সিলেট-২), মোঃ মোজাম্মেল হক (নাটোর-২), মোঃ হারুনুর রশীদ (নবাবগঞ্জ-৩), সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন (নবাবগঞ্জ-২), শাহ রুহুল কুদ্দুছ (খুলনা-৬), ফাকরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), হাজী মোঃ মোজাম্মেল হক (চুয়াডাঙ্গা-২) মোহাম্মদ আলী সরকার (রংপুর-২) ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার ও ডিনার সেটসহ বিভিন্ন সরকারি জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন।
সংশোধিত বিধির সুযোগ!
পঞ্চম সংসদ পর্যন্ত নিয়ম ছিল সাংসদদের জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা আসবাবপত্র মেয়াদ শেষে কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ককে বুঝিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় সরকার এসব আসবাবপত্র আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ষষ্ট সংসদে এই বিধান সামান্য শিথিল করে ক্ষয়িষ্ণু এবং ভঙ্গুর জাতীয় সামগ্রী হস্তান্তরে সক্ষম না হলে এসব পণ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সাংসদের প্রত্যয়নসাপেক্ষে বিশেষ বিবেচনায় ওই ধারা অবলোপন করা যেতে পারে মর্মে নতুন বিধান করা হয়; কিন্তু উল্লেখিত সাংসদরা ওই ধরনের পণ্যের প্রত্যয়নপত্র দেননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোস্টেল শাখার সহকারী সচিব (চলতি দায়িত্বে) অনুপ কুমার তালুকদার বলেন, 'কার্যপ্রণালী বিধির ২৪৯ ধারা মতে, সাংসদদের সবকিছু দেখভাল করেন সংসদ কমিটি। গত ৩ জুন আমরা বিগত সব সংসদের ঘাটতি তালিকা করে কমিটির কাছে উপস্থাপন করেছি। তারা বলেছেন, ভঙ্গুর ও ক্ষয়িঞ্চু কিছু পণ্য বাদ দিয়ে নতুন করে তালিকা করতে। এরপর তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘাটতি পণ্যের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
কতজন সাংসদ কক্ষ হস্তান্তরের সময় সংসদ সচিবালয়ের সামগ্রী বুঝিয়ে দেননি জানতে চাইলে অনুপ কুমার এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, 'তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আপনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃর্পক্ষের কাছে আবেদন করুন, আমি বলতে পারব না।'
একটি গ্গ্নাসও ভাঙেনি, সব ডিনার সেট ভেঙে গেছে
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সপ্তম সংসদের ৫ বছরে সদস্যদের দেওয়া একটি পানির গ্গ্নাসও ভাঙেনি। প্রত্যেক সাংসদ পানির গ্গ্নাসগুলো কক্ষ হস্তান্তরের সময় কেয়ারটেকারকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মনোগ্রামযুক্ত ৩৫ খণ্ডের ডিনার সেটের কোনো অস্তিত্ব নেই। পানির গ্গ্নাসগুলো অক্ষত থাকলেও মূল্যবান ডিনার সেটগুলো ভেঙে যায়! এক হিসেবে দেখা গেছে, সপ্তম ও অষ্টম সংসদে এমপি হোস্টেলের ৪, ৫ ও ৬নং ব্লকে বসবাসকারী ১৬৮ জন সাংসদের ১৩১ জনই ভেঙে গেছে_ এ তথ্য জানিয়ে ডিনার সেট বাসায় নিয়ে গেছেন।
এমপি হোস্টেলের একজন কেয়ারটেকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ''আসলে এমপি সাহেবরা ডিনার সেটগুলো ভঙ্গুর দেখিয়ে 'স্মৃতি' হিসেবে নিয়ে গেছেন।''
সপ্তম সংসদে এমপি হোস্টেলে ওঠার সময় একজন সাংসদ ফ্যামেলি স্যুটের কক্ষে ৩টি খাট, ১টি ফ্রিজ, সিলিং ফ্যানসহ ১টি জাপানের মিতসুবিসি কোম্পানির রিমোট কন্ট্রোল প্যাডেস্টাল ফ্যান, ১টি টিফিন ক্যারিয়ার, এক সেট সোফা, একটি ডাইনিং টেবিল, ৪টি চেয়ার, ১টি আলমারি, আলনা, ওয়্যারড্রব, লেপ, তোশক, বালিশ, মশারি, বেডশিট, বেড কভার, পর্দাসহ নিত্যব্যবহার্য ৪৬ ধরনের সামগ্রী বরাদ্দ পান। সিঙ্গেল রুম বরাদ্দ পাওয়া সাংসদরা সোফা ও ডাইনিং টেবিল ছাড়া ২টি খাট, ফ্রিজ, ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ারসহ সমপরিমাণ জিনিসপত্র পান।
সূত্র জানিয়েছে, বালিশ, বালিশের কভার, বেডশিট, বেড কভার, মশারি, লেপ, তোশক, পর্দা সপ্তাহ-দশ দিন পরপর ধোপাখানায় পাঠিয়ে পরিষ্কার এবং বছরে একবার এসব সামগ্রী বদলে দেওয়া হয়। ছিঁড়ে গেলে বা ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়লে পণ্য পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। এরপরও প্রায় প্রত্যেক সাংসদ উলি্লখিত পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে দেখিয়ে কেয়ারটেকারকে বুঝিয়ে দেননি।
অথচ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাংসদরা সশ্রদ্ধ চিত্তে এই বলে শপথ নেন, 'আমি যে কর্তব্য ভার গ্রহণ করিতেছি, তাহা আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম ও আনুগত্য পোষণ করিব; এবং সংসদ সদস্য রূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।'
সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বক্তব্য
বিদেশে অবস্থান করায় এ বিষয়ে চিফ হুইপ আবদুস শহীদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সপ্তম সংসদের ঘাটতি পণ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবিএম তাজুল ইসলাম বলেন, 'যতটুকু মনে পড়ে সবকিছু দিয়েই তো ক্লিয়ারেন্স নিয়েছি। কিছু পাবে এমন কিছু তো জানানো হয়নি। নট টু মাই নলেজ, আই ডোন্ট নো।'
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, 'আপনারা কোত্থেকে এসব খুঁজে খুঁজে বের করেন। সপ্তমের পর অষ্টম সংসদ চলে গেল, এখন বলছেন ঘাটতি আছে। আমাকে আগে জানতে হবে, আপনি কোথায় কি পেয়েছেন।' তিনি বলেন, 'আমি তো কখনও এমপি হোস্টেলেই ছিলাম না। একটা রুম ছিল; কিন্তু আমি কখনও থাকতাম না।'
অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী বলেন, 'আমি জায়নামাজ, এমনকি চা চামচটি পর্যন্ত ফেরত দিয়েছি। একবার শুধু সংসদের ফ্রিজটি বাসায় নিয়েছিলাম, তাও আমি তিনদিনের মধ্যে ফিরিয়ে দিই।' তিনি বলেন, 'জেনারেল ল' হচ্ছে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের কোনো আসবাবপত্র নিয়ে গেলে তিনি সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেবেন। ভেঙে গেলে তিনি ভাঙাটাই ফেরত দেবেন।'
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমাকে কোনো ডিনার সেট, টিফিন ক্যারিয়ার দেওয়া হয়নি। পুরনো হোস্টেল ছেড়ে ন্যাম ভবনে ওঠার সময় সাড়ে ১২ সিএফটির নতুন ফ্রিজ দিয়েছিল। সেটি তো বুঝিয়ে দিয়েছি, কাগজও আছে।
পুরনো হোস্টেলের ফ্রিজের বিষয়ে জানতে চাইলে আলাল বলেন, 'অনেকদিন আগের কথা, মাঝে জেলটেল খেটেছি, সব কথা মনেও নেই।'
টিআইবির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফ্র আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে এসব চুরি চামারির শুরু।' তিনি বলেন, কেবল সংসদ সচিবালয় নয়, সরকারের পদস্থ অন্যান্য কর্মকর্তার বেলায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। এর সঙ্গে গণপূর্তসহ নানান পক্ষ জড়িত।' তিনি মনে করেন, 'সরকারের সম্পদ নষ্ট করা এবং নিয়ে যাওয়া_ দুটি ভিন্ন রকমের অপরাধ। সরকারের সম্পদ নিয়ে গেলে এমপিদের বিরুদ্ধে সিভিল স্যুট হওয়া উচিত।'
রেটিং দিন :
( এই লেখাটি পড়েছেন : ১১৭০০ জন )
সম্পাদক: গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ.কে.আজাদ, ১৩৬, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
ফোন : ৮৮০২-৯৮৮৯৮২১, ৮৮০২-৯৮৮৭০৫, ৯৮৬১৪৫৭, ৯৮৬১৪০৮, ৮৮৫৩৯২৬ ফ্যাক্স : ৮৮০২-৮৮৫৫৯৮১, ৮৮৫৩৫৭৪
ই-মেইল : info@samakal.com.bd
প্রকাশক : এ.কে.আজাদ, ১৩৬, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
ফোন : ৮৮০২-৯৮৮৯৮২১, ৮৮০২-৯৮৮৭০৫, ৯৮৬১৪৫৭, ৯৮৬১৪০৮, ৮৮৫৩৯২৬ ফ্যাক্স : ৮৮০২-৮৮৫৫৯৮১, ৮৮৫৩৫৭৪
ই-মেইল : info@samakal.com.bd
Powered By:orangebd

