শুক্রবার |
ঢাকা ১৭ জুলাই ২০০৯ |
২ শ্রাবণ ১৪১৬ |
২৩ রজব ১৪৩০
শেষের পাতা

কুড়িয়ে পাওয়া আড়াই লাখ টাকা থানায় জমা দিয়েছিলেন রিকশাচালক রূপচান। সততার সেই পুরস্কার গতকাল তিনি পেয়েছেন টাকার প্রকৃত মালিকের হাত থেকে । সমকাল
রূপচান রিকশা চালান। দু'বেলা সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। তাতেও সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পারছেন না। এমন দুরবস্থার মধ্যে রূপচান যদি আড়াই লাখ টাকা পেয়ে যান! তাও যদি হয় কুড়িয়ে পাওয়া। কী করবেন তিনি? নিশ্চয় টাকা নিয়ে দ্রুত বাসায় চলে যাবেন? ভালো খাবার-দাবার, পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন পোশাক কিনবেন? না, আমরা যে রূপচানের কথা বলছি তিনি আড়াই লাখ টাকা পেয়ে বাসায় চলে যাননি। সোজা হাজির হয়েছেন থানায়। টাকাটা তুলে দিয়েছেন পুলিশের হাতে। সততার প্রতিদানও পেয়েছেন তিনি। টাকার মালিক তাকে পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনারও পুরস্কার হিসেবে দিয়েছেন আরও ৫ হাজার টাকা।
গত বুধবার দুপুরে পুরান ঢাকা থেকে নিকেতনের অফিসে ফিরছিলেন বেঙ্গল প্যাসিফিক প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম।
প্লাটিকের কাঁচামাল কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় না কিনেই ফিরছিলেন অফিসে। সঙ্গে ছিল আড়াই লাখ টাকার একটি প্যাকেট। রিকশায় করে নীলক্ষেত এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামে। বেজে ওঠে পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি। রিকশা থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য দৌড় দেন। বৃষ্টির মধ্যে মোবাইল ফোন ধরতে গিয়ে টাকার প্যাকেটটি কখন যে হাত থেকে পড়ে গেছে তিনি বুঝতেও পারেননি। হঠাৎ মনে হলো প্যাকেটের কথা। যেখান থেকে রিকশায় নেমেছেন দৌড়ে হাজির হলেন সেখানে। কিন্তু খুঁজে পাননি টাকার প্যাকেট। কোনো লুকোচুরি না করে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাহেদুল ইসলাম হেলালকে ফোনে সত্য ঘটনা খুলে বলেন। তিনি জাহাঙ্গীরকে দুশ্চিন্তা না করে অফিসে যেতে বলেন। ঝামেলা এড়াতে থানা পুলিশও করতে রাজি হননি তিনি।
দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে রাত ১১টার দিকে বাসায় বসে টেলিভিশন দেখছিলেন জাহাঙ্গীর। হঠাৎ টিভির স্ক্রলে ভেসে ওঠে আড়াই লাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়ে থানায় জমা দিয়েছেন এক রিকশাচালক। যোগাযোগ করেন থানায়। উপযুক্ত প্রমাণ হাজির করায় পুলিশও নিশ্চিত হয় টাকাগুলো তার কাছ থেকেই খোয়া গেছে। নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএম কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, রূপচাঁন প্যাকেটটি নীলক্ষেত মোড়ে কুড়িয়ে পাওয়ার সময় তার রিকশায় যাত্রী হিসেবে ছিলেন এলিফ্যান্ট রোডের কম্পিউটার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মুন্সী। পরে দু'জনই প্যাকেট খুলে এত টাকা দেখে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টাকার মালিক খুঁজে না পেয়ে টেলিভিশনের সহযোগিতা নেন তিনি।
টাকা হস্তান্তরের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ডাকা হয় বেঙ্গল প্যাসিফিক প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদুল ইসলাম হেলালকে। পুলিশ কমিশনারের হাত থেকে তিনি টাকা বুঝে নিয়ে সততার পুরস্কার হিসেবে রিকশাচালক রূপচাঁনকে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় পুলিশ কমিশনার একেএম শহিদুল হকও নিজের তহবিল থেকে আরও ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেন রূপচাঁনকে। সাহেদুল ইসলাম হেলাল সমকালকে বলেন, অন্যদের সৎ পথে চলার উৎসাহ দিতেই তিনি রিকশাচালককে এ পুরস্কার দিয়েছেন। রূপচাঁনের বাড়ি শরীয়তপুরের পালং উপজেলার দেওভোগ গ্রামে। কেরানীগঞ্জে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।
রেটিং দিন :
( এই লেখাটি পড়েছেন : ২৩৬৫ জন )
সম্পাদক: গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ.কে.আজাদ, ১৩৬, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
ফোন : ৮৮০২-৯৮৮৯৮২১, ৮৮০২-৯৮৮৭০৫, ৯৮৬১৪৫৭, ৯৮৬১৪০৮, ৮৮৫৩৯২৬ ফ্যাক্স : ৮৮০২-৮৮৫৫৯৮১, ৮৮৫৩৫৭৪
ই-মেইল : info@samakal.com.bd
প্রকাশক : এ.কে.আজাদ, ১৩৬, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
ফোন : ৮৮০২-৯৮৮৯৮২১, ৮৮০২-৯৮৮৭০৫, ৯৮৬১৪৫৭, ৯৮৬১৪০৮, ৮৮৫৩৯২৬ ফ্যাক্স : ৮৮০২-৮৮৫৫৯৮১, ৮৮৫৩৫৭৪
ই-মেইল : info@samakal.com.bd
Powered By:orangebd

