শনিবার | ঢাকা ৪ জুলাই ২০০৯ | ২০ আষাঢ় ১৪১৬ | ১০ রজব ১৪৩০
সার্চ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
উপসম্পাদকীয়
উপসম্পাদকীয়-এর আর্কাইভ
কালের আয়নায়
ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের কথা নিয়ে চায়ের পেয়ালায় তুফান
0.22%
 
গড় রেটিং:
 
রেটিং :
Bookmark and Share
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক পানি বিশেষজ্ঞের অভিমত সম্পর্কে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়ে বাংলাদেশে চায়ের পেয়ালায় তুফান শুরু হয়ে গেছে। এই তুফান সৃষ্টি করতে চাইছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতারা এবং তাদের অনুগৃহীত এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও পানি বিশেষজ্ঞ। তাতে টিপাইমুখ বাঁধের আসল সমস্যাটা চাপা পড়ে যাচ্ছে। বড় হয়ে উঠেছে পিনাক-বিরোধিতা বা ব্যাপক অর্থে ভারতবিরোধিতা। বিএনপি-জামায়াতও তা-ই চাচ্ছে। সমস্যার সমাধান তাদের আসল লক্ষ্য যে নয়, তা এখন খুবই স্পষ্ট।
টিপাইমুখ বাঁধের সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের সব পানি বিশেষজ্ঞই যে একরকম কথা বলেছেন, তা নয়। বিএনপি ঘরানার পানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন একরকম কথা, অর্থাৎ এই বাঁধ যথোপযুক্ত সতর্কতাসহ তৈরি করা না হলে উপকারের বদলে বেশি অপকার হতে পারে এবং তাতে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেরই সনি্নহিত এলাকার মানুষের ক্ষতি হতে পারে_ এ কথাটা চাপা দিয়ে তারা দেখাতে চাচ্ছেন যে, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে কেবল বাংলাদেশের ক্ষতি হবে এবং বাংলাদেশের সর্বনাশ করার জন্যই এই বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশেরই নিরপেক্ষ পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। আমি তাদের একজনের মন্তব্যের উদৃব্দতি দিচ্ছি। তিনি কাজী গোলাম মোস্তফা। বাংলাদেশে ৩২ বছর যাবৎ তিনি পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকার কাগজেই প্রকাশিত তার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'কারিগরি ও বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে মনে হয়, ভারত যদি ফুলেরতল ব্যারেজ নির্মাণ না করে, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। আর ভারত যদি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাহলে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কারিগরিভাবে নিরাপদ ড্যাম নির্মাণ সম্ভব। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দেন-দরবারে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি এবং এই দেন-দরবারে যাওয়ার বদলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসাই বাংলাদেশের জন্য লাভজনক।'
এই পানি বিশেষজ্ঞের অভিমত পাঠ করলেও বোঝা যায়, বাংলাদেশে দুই শ্রেণীর পানি বিশেষজ্ঞ আছেন। এক শ্রেণীর, যারা বিএনপি-জামায়াতের পোঁ ধরা এবং টিপাইমুখ বাঁধ সমস্যার সমাধান না ঘটিয়ে এটিকে রাজনৈতিক অশুভ উদ্দেশ্যে ভারতের সঙ্গে বিরোধের আরেকটি ইস্যু করে তুলতে চান। অন্যদিকে, যারা বাংলাদেশের প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী পানি বিশেষজ্ঞ, তারা বলেছেন, এই বাঁধ দু'দেশের মানুষের জন্যই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা দ্বারাই সমস্যাটির সমাধান করা উচিত এবং তা সম্ভবও। অযথা পানি ঘোলা করে লাভ নেই। ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রস্তাবিত বাঁধসংলগ্ন রাজ্যের মানুষও এই বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। সুতরাং এ কথা বলার উপায় নেই যে, কেবল বাংলাদেশের সর্বনাশ করার জন্যই ভারত এই ব্যয়বহুল বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিতে চাচ্ছে।
ভারতের রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশে তার দেশের স্বার্থের দেখভাল করার জন্য নিযুক্তি পেয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্কের উত্তরোত্তর উন্নয়নও তার দায়িত্বের এখতিয়ারভুক্ত। এ অবস্থায় টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পকে একটি ইস্যু করে বাংলাদেশে যে ভারতবিরোধী জঙ্গি মনোভাব সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে, সে সম্পর্কে তিনি নীরব থাকতে পারেন না। তবে তাকে তার কূটনৈতিক অধিকার ও শিষ্টাচারের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেই কথা বলতে হবে।
এখন দেখতে হবে, ঢাকাস্থ ভারতীয় দূত সম্প্রতি যে কথা বলেছেন, তাতে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন কি-না কিংবা বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো অসম্মানজনক উক্তি করেছেন কি-না? আমি পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তিনি ভারতীয় বাঙালি এবং শুনেছি, বাংলাদেশ সম্পর্কে তার মমত্ববোধ ও আগ্রহ রয়েছে, যে মমত্ববোধ ও আগ্রহ প্রকট ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় প্রথম হাইকমিশনার সুবিমল দত্তের। তিনিও ভারতীয় বাঙালি এবং আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানতাম। সদ্য মুক্ত বাংলাদেশ সম্পর্কে তার গভীর মমত্ববোধ থাকা সত্ত্বেও তাকেও একবার এক অবাঞ্ছিত বিতর্কে জড়ানো হয়েছিল।
আমি ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর বিতর্কিত মন্তব্যটি পাঠ করেছি। তিনি বলেছেন, 'বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক তথাকথিত পানি বিশেষজ্ঞ টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প নিয়ে অবাস্তব কথাবার্তা বলছেন এবং বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করা হচ্ছে।' যে রাজনৈতিক দলটি বাঁধের ব্যাপারটিকে ভারতবিরোধী প্রচারণায় হাতিয়ার করতে চাইছে, তিনি তার নামোল্লেখও করেছেন।
বক্তব্যটি পাঠ করে আমার মনে হয়নি, ভারতীয় দূত বাংলাদেশের প্রতি কোনো অসম্মানসূচক কথা বলেছেন কিংবা বাংলাদেশের সব পানি বিশেষজ্ঞ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। তিনি 'কিছুসংখ্যক পানি বিশেষজ্ঞের' বিরুদ্ধে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশ সরকারকে কিংবা বাংলাদেশের প্রকৃত এবং সব পানি বিশেষজ্ঞকে দায়ী করেননি। দায়ী করেছেন 'কিছুসংখ্যক তথাকথিত পানি বিশেষজ্ঞকে'। পিনাক বাবু টিপাইমুখ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে ভারতের অবস্থান কেবল স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেই তার দায়িত্ব পালন শেষ করতে পারতেন। পারতেন বাংলাদেশের 'কিছুসংখ্যক পানি বিশেষজ্ঞের' কথাবার্তা সম্পর্কে চুপ থাকতে। তিনি তা থাকেননি। তাতে কি তিনি তার কূটনৈতিক অধিকারের সীমারেখা লঙ্ঘন করেছেন?
যদি করে থাকেন, তাহলে সাম্প্রতিক অতীতে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক ডেপুটি হাইকমিশনার ইরফান রাজা যখন তার কূটনৈতিক অধিকার ও শিষ্টাচারের সীমা সত্য সত্যই লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে অশোভন ও অশালীন মন্তব্য করেছিলেন, তখন বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষার বর্তমান জিহাদিরা কোথায় ছিলেন? ভারতীয় হাইকমিশনারের মন্তব্যে তো বাংলাদেশের প্রতি কোনো অসম্মানসূচক কথা দূরে থাক, ইঙ্গিতও নেই; আছে 'কিছু তথাকথিত পানি বিশেষজ্ঞ' সম্পর্কে। আর পাকিস্তানি কূটনীতিক ইরফান রাজা ঢাকায় বসে সরাসরি অসম্মানজনক উক্তি করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তথা গোটা স্বাধীন বাংলাদেশ সম্পর্কে। তখন জাতীয় মর্যাদার হানিকর এই ধৃষ্ট উক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের এবং বর্তমানের জিহাদিদের টুঁ শব্দটি করতে শোনা যায়নি কেন? এমনকি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন ইরফান রাজাকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কারের বিলম্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তখনও তাতে সমর্থনদানের বদলে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের দেখা গেছে ইরফান রাজার ইফতার পার্টিতে গিয়ে তার সঙ্গে কোলাকুলি করতে এবং তাকে সমর্থন জানাতে।
পিনাক বাবুর পক্ষ নিয়ে কথা বলার কোনো ইচ্ছা আমার নেই, প্রয়োজনও নেই। তিনি একটি বড় দেশের প্রতিনিধি। নিজেকে কী করে উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ ও প্রচারণা থেকে মুক্ত করতে হয়, তা তিনি জানেন। তিনি যদি সত্যই বাংলাদেশের প্রতি কোনো অমর্যাদাকর উক্তি করতেন, তাহলে অবশ্যই সবার আগে তার উক্তির প্রতিবাদ জানাতাম। কিন্তু টিপাইমুখ নিয়ে কিছুসংখ্যক পানি বিশেষজ্ঞকে 'তথাকথিত' বলায় এবং তাদের বক্তব্যকে ভারতবিরোধী প্রচারণা আখ্যা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট 'বিশেষজ্ঞরা' তার প্রতিবাদ জানাতে পারেন। কিন্তু ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে অসম্মান করেছেন কি বলা যায়, না গায়ে পড়ে তার প্রতিবাদ জানাব?
বাংলাদেশকে পদে পদে অসম্মান করছে, তার জাতীয় মর্যাদায় আঘাত হানছে, তার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলাচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং পশ্চিমা কতিপয় দেশ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যান মেরি থেকে শুরু করে কালা জাহাঙ্গীর নামে পরিচিত হ্যারি টমাস, বিউটেনিস প্রমুখের কথাবার্তা (বিএনপি-জামায়াতের আমল থেকে ওয়ান-ইলেভেনের আমল পর্যন্ত), প্রকাশ্য কার্যকলাপ কি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ও জাতীয় মর্যাদার জন্য অসম্মানসূচক ছিল না?
বাংলাদেশে ওয়ান-ইলেভেন সংঘটনে পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কি অপ্রকাশ্য ছিল? কী করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যান মেরি একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের শত্রু এবং সন্ত্রাসী মৌলবাদী দল জামায়াতকে 'মডারেট গণতান্ত্রিক মুসলিম দল' বলে সার্টিফিকেট দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান বৈধ ও শক্তিশালী করায় সাহায্য জোগাতে পারেন? কী করে হ্যারি টমাস প্রকাশ্যে হুমকি দিতে পারেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকরা সাবধান না হলে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় আসছে? (এর পরপরই অবশ্য ওয়ান-ইলেভেনের আবির্ভাব)। কী করে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সরকারপ্রধানদের ডিঙিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন এবং তাদের পরামর্শ দিতে পারেন?
গোটা বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের কথাবার্তা-কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ নয়; এই রাষ্ট্রদূতদের অধীনস্থ একটি দেশ। বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক এবং কলামিস্ট (বর্তমানে অসুস্থ) মহিউদ্দিন আহমদ এই কূটনীতিকদের কথাবার্তা-কার্যকলাপদৃষ্টে তার এক কলামে লিখেছিলেন, এরা এখন বাংলাদেশে ডিপ্লোম্যাটের ভূমিকা পালন করছে না, পালন করছে 'ভাইসরয়ের' ভূমিকা। মহিউদ্দিন আহমদের মতো অনেকেরই মতে, এই কূটনীতিকদের কথাবার্তা ও কার্যকলাপে বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদাই শুধু ক্ষুণ্ন হয়নি, তার স্বাধীন মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রের মতো তার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। তখন বর্তমানের জিহাদিদের কণ্ঠে কখনো টুঁ শব্দটিও শোনা যায়নি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে প্রকাশ্যে নাক গলাতে পাকিস্তান যে এখনো দ্বিধা করে না, তার প্রমাণ, কিছুদিন আগে এক পাকিস্তানি প্রতিনিধি ঢাকায় এসে বর্তমান সরকারকে প্রকাশ্যেই পরামর্শ দিয়ে গেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ যেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা না করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাদের বিচার হবে কি হবে না, বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্ত নেবে। এ সম্পর্কে পাকিস্তানের কথা বলার সুযোগ এবং অধিকার কোথায়? তবু তারা বলছেন। ভাবখানা এই, বাংলাদেশ এখনও একাত্তর-পূর্ববর্তী অবস্থায় আছে এবং তাদের একটি উপনিবেশ। এ সম্পর্কে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের কণ্ঠে কোনো রা নেই। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেই তাদের একেবারে রণমূর্তি। ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের একটি সাধারণ উক্তিকে কেন্দ্র করে বিএনপি সদস্য সংসদীয় কমিটির সভায় তাকে বহিষ্কারের প্রস্তাব পর্যন্ত উত্থাপন করেছেন। কিন্তু ইরফান রাজা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিনিধির বিভিন্ন সময়ের ধৃষ্ট উক্তির সময় তারা ছিলেন নির্বাক মোমের পুতুল।
বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিএনপির ট্র্যাপে কেন পা দিলেন, তা আমি বুঝতে অক্ষম। ভারতের রাষ্ট্রদূত 'হয়তো কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা মানেননি'_ এ কথাটি তাকে কেন বলতে হলো? বাফার স্টেট এবং সৌদি আরবের বাদশাহ্র সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে তিনি ইতিপূর্বে হোঁচট খেয়েছেন। আবারও খেলেন। তার তো সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে সরাসরি বলে দেওয়া উচিত ছিল, এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন হলে পররাষ্ট্র দফতরের কোনো মুখপাত্র করবেন। এর আগে অনেক বিদেশি রাষ্ট্রদূত এ ধরনের অনেক কথা বলেছেন। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তাদের তুলনায় কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করেছেন কি-না এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।
এ কথাটা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারেননি, কিন্তু আরেক মন্ত্রী বলেছেন। তাকে ধন্যবাদ জানাই। যদিও কথাটা বলার এখতিয়ার তার নেই, এখতিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। আমার কথা, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসতে না বসতেই বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক আর্মির সঙ্গে সরকারের বিরোধ বাধানোর বিপজ্জনক খেলা শুরু হয়েছিল। তাতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা ভারতবিরোধী পুরনো খেলাটির তাস আবার ভাঁজতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে সরকারের অ্যাপলোজেটিক ভূমিকা গ্রহণের কোনো দরকার নেই। বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী সরকার শক্ত এবং কঠোর হোন। টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প নিয়ে সমস্যা; সমস্যা পিনাক বাবু নন। সেই বাঁধ সমস্যা সমাধানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় তারা এগিয়ে গেছেন। তাকে সফল করে তুলুন।

লন্ডন, ৩ জুলাই, শুক্রবার, ২০০৯
রেটিং দিন :
 
( এই লেখাটি পড়েছেন : ৫১৭৫ জন )

Warning: mysql_fetch_object(): supplied argument is not a valid MySQL result resource in /home/orangebd/public_html/news_details.php on line 1177
 
 

Warning: mysql_num_rows(): supplied argument is not a valid MySQL result resource in /home/orangebd/public_html/news_details.php on line 1461
 
সম্পাদক: গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ.কে.আজাদ, ১৩৬, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
ফোন : ৮৮০২-৯৮৮৯৮২১, ৮৮০২-৯৮৮৭০৫, ৯৮৬১৪৫৭, ৯৮৬১৪০৮, ৮৮৫৩৯২৬ ফ্যাক্স : ৮৮০২-৮৮৫৫৯৮১, ৮৮৫৩৫৭৪
ই-মেইল :
info@samakal.com.bd
Powered By:orangebd